ঢাকার গলিপথ শেষ হতে থাকা সকাল

সময়টা এখন কি চমৎকার! সূর্য দিনে দিনে হেলতে থাকে। সকালের রোদটা খুব একটা শরীরে লাগে না, ঠিক যেন মিষ্টি রোদ। গলির রাস্তায় মানুষের স্বাভাবিক কোলাহল। গরমের উত্তাপ নেই। ঠিক গরম না ঠান্ডাও না, মাঝামাঝি রকমের। শীতলতা।
বারান্দায় দাঁড়ালে মানুষের কর্ম ব্যস্ততা দেখা যায়। ঠেলাগাড়ি ইট নিয়ে এসেছে। ছন্দে ছন্দে ইট নামিয়ে নিচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। সবজি ফেরিওয়ালা ডেকে যাচ্ছে। বড় পাতিল মাথায় নিয়ে মাছ মাছ বলে হেঁকে যাচ্ছে মাছওয়ালা। উল্টো করে কয়েক হালি ঝোলানো মুরগি হাতে মাঝে মাঝে মুরগিওয়ালার দেখাও মেলে। ওই মুরগি-ইইই বলে লম্বা একটা টান মেরে বিজ্ঞাপন করতে করতে যাচ্ছেন। পথিমধ্যে কোন ভদ্রলোক ডেকে নিয়ে দরদাম করছেন।
দুপুর হবে হবে এমন সময় মা’দের দেখা মেলে সন্তানের ব্যাগ হাতে ফিরছেন বাসায়। ব্যাগমুক্ত হয়ে সন্তানেরা আনন্দ করতে করতে বাসায় ফিরছে। আরেকদল কিশোর-কিশোরীকে দেখা যায় মাঝে মাঝে স্কুল কলেজের ড্রেস পরে দ্রুত যাবার চেষ্টায় আছে।
বারান্দা থেকে নেমে রাস্তায় যদি একটু আগানো যায়, গলির মোড়ে চায়ের দোকান কিংবা ঐ সিংগারার দোকানটাতে দেখা যাবে বসেছে আড্ডা। তেলে ভাজা রুটি আর সবজির গন্ধ এখনো চারপাশে আছে। দোকানের পাশেই দেখা যাবে, এঁটো প্লেট ফেলে রাখা হয়েছে ধোয়া হবে বলে।
এছাড়া এবেলায় আরো ডেকে যায় ঝাড়ুওয়ালা, হাড়ি-পাতিল-বাসনওয়ালা আরো নানা রকম ফেরিওয়ালা। ছোট এক মাইকে চেঁচিয়ে ইদুর মারার তেলাপোকা মারার ওষুধ বিজ্ঞাপন করতে করতে যাচ্ছে। দেখা মেলে কদাচিৎ, ভ্যানে অনেক বই সাজিয়ে, গান বাজিয়ে চলছে টুপিওয়ালা বিক্রেতা। ভ্যানে সাজান নানা রকমের বই, নানা রকমের কথিত ওষুধ শিশির দেখা মেলে। বলা হচ্ছে, অমুক আমলের অমুক হবে, অমুক ভেষজে অমুক অসুখ সারবে। বেকার মানুষ আমার মত কাজ নেই যার দাঁড়িয়ে, দু’ একটা বইয়ের পাতা উল্টিয়ে দেখে। কেনার সামর্থ্য নেই বলে, কিছুক্ষণ পায়চারি করে আবার হাঁটা দিয়ে চলতে থাকে।
গলির আরেকটু সামনে যদি আগানো যায় ওই যে ফাঁকা জায়গাটা, ছোটবেলায় খেলতাম খুব সবাই মিলে। ওইখানে পাইলিং চলছে উচ্চ শব্দ করে। আমার মতো মানুষেরা কাজ নেই যাদের, দল বেঁধে মানুষ তামাশা দেখছে।

এইযে ঢাকার রাস্তার গলি, সব কি একই রকম চিত্র দেখা যায় সব সময়, সব ঋতুতে? না বোধ হয়। শীত আগমন এর আগে ঠিক এই সময়টাতে একটু অন্যরকম খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন। ভেতরে ভেতরে শান্তির একটা অনুভব পাওয়া যায়। গরমে শীতে কিংবা বর্ষায় আপনি ঢাকার গলি এমন করে অনুভব করতে পারবেন না। আপনার হয় ক্লান্তি লাগবে, নয়তো আপনার অসহ্য লাগবে। এই সময়টাতে আপনার ক্লান্তি লাগবে না, মনে হবে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ধরে এই গলি পথে আপনি হাঁটতে পারবেন।
লিখতে লিখতে দুপুর হয়ে গেলো। দুপুরের ছবি আবার অন্যরকম হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *