ট্রেন

আমি প্রায়ই একটা ট্রেন এ চড়ি। ট্রেনের শেষ বগিতে একলা আমি বসে। ট্রেনের পরিচিত শব্দ আর দুলুনি আমি টের পাই। আর আতংক লাগে, কেবল মনে হয় আমি যেন আমার স্টেশনটাতে নামতে পারবো না।
আর সেটাই হয়। আমার স্টেশনে ট্রেন থামে না। চলতেই থাকে। আমি আতংকিত হয়ে বগিতে বসে থাকি। ট্রেন চলতেই থাকে। এটা একটু লুপের মতন চলতে থাকে অনেকক্ষণ।
তারপর আমি জেগে উঠি।

সম্পর্কের জটিলতা

অনেক সম্পর্কের জটিলতাগুলোই তো দেখলাম। কত অদ্ভুতভাবে সমাজের চোখে কিংবা পরিবারের চোখে ব্যক্তি সম্পর্কগুলো জটিল হয়ে আছে। এই জটিলতাগুলো এক ধাক্কাতেই দূর করা যায়। ঐ মানুষগুলো কেন জানি জটিলতা টিকিয়ে রেখে কষ্ট পেয়ে যেতেই বরং বেশি আগ্রহী। কি যেন বলে এটাকে কষ্ট থেকে সুখ পাওয়া। অথচ ঐ সম্পর্কের গল্পগুলো কত না সুন্দর হতে পারতো!

১৫ এর পহেলা বৈশাখ!

ছিঃ বললেও গা ঘিন ঘিন করে ওই শুয়োরের বাচ্চাদেরকে। এরা কোন প্রাণীকুলেরই প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা রাখে না। এমন কোন দিবস নাই এরকম ঘটনা ক্রমাগতই ঘটানো হচ্ছে। মানুষ জন ক্রমেই নির্লিপ্ত থেকে নির্লিপ্ত হচ্ছে। তাই হাজারো মানুষের ভিড়ে এইসব ঘটনাগুলো ঘটে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই তোমার চিত্র? এই তোমার শ্রী?
আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এই তোমাদের মেরুদণ্ডের জোর! বাহ! চমৎকার।
“টিএসসির সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইটের বাইরে যেখানে নারীদের ওপর এই হামলা হয়, সেখান থেকে কয়েক গজ দূরেই গত ফেব্রুয়ারিতে সন্ত্রাসীদের চাপাতির আঘাতে প্রাণ হারান লেখক অভিজিৎ রায়।” বিডিনিউজ
আমি জানতে চাই, দায়িত্ব-রত পুলিশেরা কাদের দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমানে? তারা কি জনগণের টাকা খেয়ে ওই সন্ত্রাসীদেরই দায়িত্ব অত্যন্ত সততার সাথে পালন করছে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর দায়িত্বটা কি?
ওই ইতর শুয়োরদের শাস্তি দেয়ার আগেই এই পুলিশরা কি শাস্তি পাবে না তাদের এই গাফিলতির জন্য?
আর সংবাদপত্র! বলবো কি? প্রতিবাদ করলে হাত ভাঙতে হয় এটাই বুঝে ফোকাস করা লাগে। তার মানে এর পর কেও প্রতিবাদ করলে হাত ভাঙবে তাই প্রতিবাদ করতে যেও না। এসব লুতুপুতু মার্কা রিপোর্ট করা বাদ দিয়ে ওই শুয়োর ইতরদের নাম ধাম আর ছবি প্রকাশ করুন।
আমরা জানতে চাই এই শুয়োরগুলো কারা। জনগণই এদের প্যাকেট করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে না হলে অন্য কোন খানে ঠিকই এদের প্যাকেট করা হবে।

বেশিরভাগরাই কেন জানি একই ভাবে বলে!

বেশিরভাগরাই কেন জানি একই ভাবে বলে! একই রকম ভাবে বলে। বলার ধরণটাও তো স্বকীয় হতে পারে। তা না। কি সমালোচনা, আর কি পর্যালোচনা, কি যুক্তি, কি তর্ক! বেশিরভাগদের কথা বার্তা সুরের মধ্যে ভিন্নতা পাই না।

দুঃখ হচ্ছে শীতের শুষ্ক ঝরা পাতার মতন

দুঃখ হচ্ছে শীতের শুষ্ক ঝরা পাতার মতন। সব দুঃখের পাতাই ঝরা পাতা। শুকনো হতে হবে। দুঃখ যার যত বেশি তার পাতা ততটাই শুষ্ক। ঝরা পাতা তাই ধরতে গেলে সাবধান। কারণ তা স্পর্শকাতর। অল্পতেই ভেঙ্গে যেতে পারে।
সুখটা হচ্ছে কচি সবুজ পাতা। যার পাতা যত সবুজ সে ততটাই সুখি। আর রঙ বেরঙয়ের ফুল হচ্ছে নানা সুখের গল্পসমগ্র। সুখ গল্পসমগ্র লিখতে আগে ঝরা পাতার গল্প শুনতে হয়। তখন শীতকাল আসে। শীতকাল পার হবে ঝরা পাতার দিন শেষে দুঃখগুলো মিলিয়ে যাবে। সবুজ কচি পাতায় নতুন নতুন সুখ দেখা যাবে। বসন্তে হরেক ফুল। সুখের গল্পসমগ্র চলবে আবার পরের শীত পর্যন্ত।

গন্ধ এর নাম

আমাদের নানা রকম রঙ এর নাম হয়। যেমন: লাল রঙ নীল রঙ বা সবুজ রঙ। স্বাদেরও রকম ফের আছে। শব্দ দিয়ে বলা যায়। যেমন ঝাল মিষ্টি বা টক। কিন্তু নানা রকম গন্ধ এর জন্য কি শব্দ আছে? যেমন গোলাপ ফুলের যে সুবাস সেটাকে কি বলে? কিংবা গোলাপের সুবাস তো হয় অনেক রকম। একেক জাতের গোলাপের এক এক সুবাস। আলাদা আলাদ নাম কি আছে? কিংবা এমন একটা শব্দ যা বললে বুঝতে পারবো সেই গন্ধটাকেই বলা হচ্ছে?

কোন একটা গন্ধ নামকরণ করতে হলে বলতে হয় অমুক ফুলের গন্ধ। এমন কিছু কি নেই যা বললে গন্ধটাকে সংজ্ঞায়িত করা যায়? আর যদি নানা রকম গন্ধের নামকরণ না করা হয়ে থাকে, আমরা করতে পারি 🙂

শীত বস্ত্র উত্তোলন কে ট্র্যাডিশন বানাইয়া ছাড়ছে বটে!

শীত বস্ত্র উত্তোলন কে ট্র্যাডিশন বানাইয়া ছাড়ছে বটে! শীত বস্ত্র উত্তোলন কি ট্র্যাডিশন হতে পারে?
একটা সাধারণ বিষয় হয়তো ভেবে দেখা হয় না। আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমাকে কেন আরেক জন সাধারণ মানুষের কষ্টের দায়টা নিতে হবে?
শীত বস্ত্র উত্তোলন কার্যক্রমগুলো দেখে ভাবছি বিষয়টা কেমন যেন অভ্যাসে টার্ন করতেছে। মানে শীত আসবে। শীতার্ত মানুষ হবে। আমরা হায় হায় করে উঠবো। তারা মারা যাবে। আমাদের মন হু হু করে উঠবে। তারপর এলাকা/ দল নানা নানা সংগঠন নানা আয়োজন এর মধ্য দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।
যত সহায়ই করা হচ্ছে, হয় বা হবে, এই অসহায় মানুষের সহায় আর হয় না। লং টার্ম সমাধান নাই। শর্ট টার্ম এন্টিবায়োটিক থ্যারাপি চলছে। আমরাও কম ভাঁড় নই। তাদের অসহায়ত্ব কে পুঁজি করে ছবি খিচিয়ে আমাদের প্রোফাইল না রাঙালে তো শীতটা জমে না। ছিঃ

প্রজাপতি উড়ছিল

প্রজাপতি উড়ছিল। ছেলেটাও চাইছিল প্রজাপতিটা একটু ভালো করে দেখে নিতে। প্রজাপতি মনে মনে ভাবল, ছেলেটাকে তার রূপ এতো সহজে দেখতে দিবে না। সে দ্রুতই পাখা ঝাপটায়। এক ফুল থেকে আরেক ফুলে বেড়ায়। তাতে প্রজাপতিকে লাগছিল আরো সুন্দর।

ছবিটা আরেকটু ভালো হতে পারত যদি দুটি মুরগি ছানা থাকতো

শিল্পী একটি ছবি আঁকা মাত্রই শেষ করলেন। নিজের চিত্রকর্ম দেখে তাকে যথেষ্ট আনন্দিত মনে হচ্ছিল। বড়রা ছবিটা দেখে বেশ তারিফ করলেন। একজন বলে বসলেন, ছবিটা ফ্রেম করে বাঁধিয়া রাখার মতন।
শিল্পী প্রশংসায় সামান্য পুলকিত। চিত্রকর্মটি তেমন বেশি কিছু নয়। একটা সাধারণ গ্রামের দৃশ্য। আঁকাটি সম্পর্কে বাড়ির সবার ছোটকে জিজ্ঞাসা কলা হল। ছোট বিজ্ঞের মতন জবাব দিল, ছবিটা আরেকটু ভালো হতে পারত যদি দুটি মুরগি ছানা থাকতো। আরো ভালো হত যদি একটা মানুষও থাকতো।